রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম উপাদান হলো সরকার। সরকার হলো রাষ্ট্রের মুখপাত্র। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে সরকার গঠন করে থাকে। রাষ্ট্রভেদে সরকারের রূপ ও সংগঠন ভিন্ন ভিন্ন হয়। নিঃসন্দেহে গণতন্ত্র সকল শাসনব্যবস্থার মধ্যে সর্বোত্তম। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশে সংসদীয় গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে।
আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগের মধ্যকার সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে গণতান্ত্রিক সরকারকে দু ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ও রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার। নিচে সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার এবং রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের মধ্যে বেশকিছু পার্থক্য রয়েছে। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি পার্থক্য হচ্ছে-
১. যে শাসনব্যবস্থায় শাসন বিভাগ তাদের কাজের জন্য সংসদ বা আইনসভার নিকট দায়ী থাকে তাকে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত বা সংসদীয় সরকার বলে। অন্যদিকে, যে শাসনব্যবস্থায় শাসনকার্য পরিচালনার ভার রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত থাকে এবং তিনি সাধারণত আইনসভার নিকট দায়ী থাকেন না তাকে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার বলে।
২. সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তি। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান একই ব্যক্তি।
৩. সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যগণকে আইনসভার সদস্য হতে হয়। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে মন্ত্রিগণ সাধারণত আইনসভার সদস্য নন।
৪. সংসদীয় সরকারে আইনসভা যেকোনো সময় অনাস্থা প্রস্তাব এনে মন্ত্রিসভাকে পদচ্যুত করতে পারে। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে আইনসভা মন্ত্রীদের পদচ্যুত করতে পারে না।
৫. জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় সংসদীয় সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে না। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থায় জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায়।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?